:
Breaking News

বিবর্তনের ধারায় প্রথম পাখি

বিবর্তনের ধারায় প্রথম পাখি

বেশিরভাগ ডাইনোসর যদিও ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে,তবু থেরোপড জাতীয় মাংসাশী ডাইনোসরের একটি দল - যারা দ্বিপদ বিশিষ্ট, তিনটি নখ এবং ফাঁপা হাড় দিয়ে তৈরি - যার মধ্যে ভেলোসিরাপ্টর ও টাইরানোসরাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরা মনে হয় আধুনিক পাখিতে উত্তরণ করা শুরু করেছিল।অনেক বিশেষজ্ঞ জার্মানিতে পাওয়া ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরানো পালকযুক্ত ডাইনোসর আর্কিওপটেরিক্সকে প্রথম পাখি হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। যা হোক, বিজ্ঞানী লোয়েন বলেছেন যে সাম্প্রতিক আবিষ্কার থেকে বোঝা যায় যে পাখির মতো ডাইনোসরেরা আর্কিওপটেরিক্সের আবির্ভাবের সময় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আকারে বৈচিত্র্যময় হয়েছিল।প্রায় ১৫০ মিলিয়ন বছর আগে একটি পাখির মতো ডাইনোসর মনে হয় দক্ষিণ-পূর্ব চীনের একটি জলাভূমিতে আটকা পড়েছিল ও সেখানে তার মৃত্যু হয়। ২০২২ সালের অক্টোবর এবং নভেম্বরে এক অভিযানের সময় গবেষকরা চীনের ফুজিয়ান প্রদেশে ঝোংহে কাউন্টির ইয়াংইয়ুয়ান গ্রামের কাছে একটি জুরাসিক যুগের ডাইনোসরের জীবাশ্ম খুঁজে পান এবং এর নামকরণ করেন ফুজিয়ানভেনেটর প্রডিজিওসাস। তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল সম্প্রতি নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।ফুজিয়ানভেনেটর হল এভিলেনস্ নামক একটি গোষ্ঠীর সদস্য, যার মধ্যে সমস্ত পাখি এবং তাদের নিকটতম সরীসৃপের ডাইনোসরেরা রয়েছে।অদ্ভুত ‘ডাইনোসর’ পাখির বিবর্তন নিয়ে পুনর্বিবেচনা করার জন্য চীনের বিজ্ঞানীরা দাবি করেন। জীবাশ্মটি ‘প্রথম পাখি’ আর্কিওপটেরিক্সের মতোই পুরানো।উড়ার পরিবর্তে দৌড়ানো বা সাঁতারে সক্ষম ছিল বলে মনে হয়। এরা হয়তো আর্কিওপটেরিক্সের মতো একই সময়ে বিরাজ করত, যাকে প্যালিওন্টোলজিস্টরা প্রথম পাখি বলে মনে করেন।ফুজিয়ানভেনেটর প্রডিজিওসাস আরও প্রমাণ যোগ করেছে যে জুরাসিক যুগের শেষভাগে প্রচুর বিভিন্ন রকমের পাখি বাস করত। বেজিংয়ের চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সের একজন প্যালিওন্টোলজিস্ট ও গবেষণাপত্রের সহ-লেখক হাইলু ইউ বলেছেন, ডাইনোসরেরা বিভিন্ন পরিবেশগত জায়গা দখল করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পাখিতে বৈচিত্র্য আনতে পারে। সল্টলেক সিটির উটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিওন্টোলজিস্ট মার্ক লোয়েন বলেছেন, এই গবেষণাটি প্রমাণ করে যে আর্কিওপটেরিক্সের সময় ডাইনোসররা বিভিন্ন ধরনের পাখির মধ্যে বৈচিত্র্য এনেছিল। হাইলু ইউ বলেছেন, প্রাথমিক পাখির বিবর্তন সত্যিই জটিল।ফুজিয়ানভেনেট জীবাশ্মের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হল, এদের মাথার খুলি, ঘাড় ও লেজের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবু এর শরীর এবং অঙ্গগুলি অন্যান্য ডাইনোসর পাখির সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ। এই মিলগুলির মধ্যে রয়েছে আঙুলের দৈর্ঘ্য, শ্রোণীর ও মেরুদণ্ডের গঠন। কাঁধের হাড়ের ব্লেড ছোট ও আঁকড়ে ধরার জন্য বিশেষ আঙুল রয়েছে। জীবাশ্মের কিছু অংশের অভাবে ফুজিয়ানভেনেটের প্রাথমিক পাখির বিবর্তনের কিছু ফাঁক রয়ে গেছে।তবে এটিতে অনেক গঠনগত পরিবর্তন ছিল না, যাতে মনে হয় তারা উড়তে পারত। যেমন, কাঁধের এবং আঙুলের গড়ন অন্তত তাই বোঝায়। সব থেকে অদ্ভুত হল এর পেছনের পা, যার নীচের পায়ের হাড় উরুর হাড়ের চেয়ে দ্বিগুণ লম্বা।কানেকটিকাটের নিউ হ্যাভেলের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট প্যালিওন্টোলজিস্ট ভরত অঞ্জন ভুলার বলেছেন, এই ধরনের লম্বা পা একটি দৌড়ানোর পক্ষে উপযোগী অথবা সাঁতারের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়া,যে এলাকায় ফুজিয়ানভেনেটের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, গবেষকেরা সেখানে বিভিন্ন ধরনের জলাভূমির অন্যান্য প্রাণীরও জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন, যেগুলোকে স্থানীয়রা ঝংহে প্রাণী বলে।এই জীবাশ্মগুলির মধ্যে রয়েছে মাছ, কচ্ছপ ও অন্যান্য জলজ সরীসৃপ।এই গবেষকেরা মনে করেন,জলাভূমি আদি পাখিদের আগে অজানা আবাসস্থল ছিল। ডাইনোসর পাখির এখানে পাওয়ার বিষয়টি খুবই আশ্চর্যের! কেননা,এর আগে এই এলাকায় কোনো ডাইনোসর পাওয়া যায়নি।জুরাসিক কালের পরবর্তী ডাইনোসরের উদাহরণ বিরল, কারণ তাদের ফাঁপা হাড়গুলি ভঙ্গুর ও ভালোভাবে সংরক্ষিত ছিল না।তাই এরকম অনেক কিছু আবিষ্কার করা বাকি আছে। গবেষকেরা শুধুমাত্র এই প্রাণীদের শারীরবৃত্তীয় এবং জীবনধারার বৈচিত্র্যের কিছুটা দেখেছেন মাত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *