খবর সোজাসুজি

চোখে চোখ রেখে কথা বলে !!!
চোখে চোখ রেখে কথা বলে !!!

নেতাজী নামটা অসম্মান করছে বাঙালিরা

নেতাজী নামটা অসন্মান করছে বাঙালিরা 

বটু কৃষ্ণ হালদার

 ভারত বর্ষের জনগণের কাছে নেতাজী সুভাষ নামটা ভগবানের স্বরূপ।আমরা সবাই জানি ভগবানের জন্ম আছে কিন্তু মৃত্যু দিবস নেই।এই নামটা আবেগ,অনুভূতি।২৩ শে জানুয়ারি ছিল বলে ২৬ শে জানুয়ারি,১৫ ই আগস্ট পালিত হয়।

তিনিই বোধহয় ভারতবর্ষের একমাত্র রাজনৈতিক ❝জননেতা❞ যার নামে আজও কান্দাহার থেকে রেঙ্গুন,পেশোয়ার থেকে চট্টগ্রাম – এক হয়ে যায়।

তিনিই হয়তো একমাত্র রাজনৈতিক নেতা যার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার দুর্নীতি, স্বজন পোষন, স্বার্থপরতা কিংবা দেশের মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ কেউ কখনো আনতে পারবে না।

এই জন্যেই তিনি ❝নেতাজি❞, আমাদের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। অবিভক্ত ভারতবর্ষের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীন ভারতের রূপকার। ভারতবর্ষের সত্যিকারের দেশনায়ক।

 কিন্তু গান্ধীজি অহিংস ছিলেন না। অহিংস ছিল তাঁর মুখোশ। নেতাজি সুভাষকে তিনি কংগ্রেস থেকে সরিয়েছিলেন হিংসার অনলে জ্বলে। প্রমাণ ১৯৩৯ সালে ত্রিপুরি কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন। সুভাষ নির্বাচনে দাঁড়ালেন গান্ধীজির অমতে। কী এত বড় স্পর্ধা সুভাষের! গান্ধীজি অবাক। তাই তিনি তাঁর মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে সুভাষের বিরুদ্ধে দাঁড় করালেন। জয়ী হলেন সুভাষ। ফল হল মারাত্মক।

              গান্ধী ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

নির্বাচনে নেতাজীর জয় লাভের পর গান্ধীজির উক্তি: ‘The defeat of Pattabhi Sitaramyya is my defeat’ অর্থাৎ পট্টভি সীতারামাইয়ার পরাজয় মানে আমার পরাজয়।’ এ কী সাংঘাতিক কথা! জনগণের ভোটে নির্বাচিত সভাপতি সুভাষচন্দ্র বসুর জয়ে হঠাৎ মহাত্মার মত মানুষের এই ধরনের উক্তির কারণ কী? কারণ হিসেবে বলা হল গান্ধীজির নীতির কথা। গান্ধীজি অহিংসার পুজারী, অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী। সুভাষ ঠিক এর বিপরীত। তাই সুভাষের জয় মানেই গান্ধীজির অহিংস নীতির পরাজয়। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আদৌ তা নয়। অক্ষমতার জন্য অহিংসার বুলি। আসলে সুচতুর গান্ধীজিকে বিচলিত করেছিল সুভাষের জয়। তিনি চরম হিংসা করতেন নেতাজীর জনপ্রিয়তাকে।কেননা, গান্ধীজির মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে সমর্থন করেছিলেন গান্ধীবাদী সব নেতা। অর্থাৎ, কংগ্রেসের তাবড় তাবড় নেতারা। বলতে গেলে সুভাষ একাই লড়েছেন তাদের বিরুদ্ধে নিজের অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে। একা সুভাষ যখন ধরাশায়ী করলেন গান্ধীজিসহ কংগ্রেসি রথী-মহারথীদের তখনই রব উঠল-গেল গেল সব গেল। টের পেলেন ভারতের একমাত্র নেতা তাঁর আসনও টলমল।

ব্যস, কংগ্রেসের গ্রেট ডিক্টেটর অহিংসার মুখোশ-পরা গান্ধীজি হিংসার অনলে জ্বলে ভারতের শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিককে সরিয়ে দিলেন কংগ্রেস থেকে। রাখলেন তাঁর স্তাবকদের-যারা ক্ষমতা ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না।

                 নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ………নির্ভীক নির্লোভ নেতাজি সবচেয়ে বেশি দেশের কথা ভাবতেন। বিবেকানন্দের মানসপুত্র নেতাজি সুভাষের কাছে ‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপী গরিয়সী’। এটা কি গান্ধীজি জানতেন না?

জানতেন সবই। তবুও নেতাজিকে সরালেন কেন? নিজের স্বার্থে। গান্ধীজির পরিবারের লোকজনও এই কারণে তাঁকে সুনজরে দেখতেন না। নিজের স্বার্থে সুভাষকে সরালেন তিনি, তাঁর একনম্বর নেতৃত্বের সুরক্ষায়। সেটা যে দেশের কতবড় ক্ষতি আমরা তা টের পাচ্ছি হাড়েহাড়ে।

বারবার স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষতি হয়েছে গান্ধীজির কারণে। এই জন্য আন্দোলনকারীরা হতাশায় ভেঙ্গে পড়েছেন। সত্যিকারের আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়েছেন তিনি। যাদের মধ্যে ছিলোনা কোনো কিছু পাওয়ার লোভ। শুধু দেশের মুক্তির জন্য যারা নিজেদের উৎসর্গ করে গেলেন তাদের গুণ্ডা আখ্যা দিলেন জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী। ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী, মাস্টারদা সূর্যসেন, ভগৎ সিং, রাজ গুরু, শুকদেব প্রমুখ দেশ প্রেমিক বিপ্লবীরা গান্ধীজির অভিধানে সন্ত্রাসবাদী গুন্ডা।

চমৎকার গান্ধীজি, চমৎকার! তোমার দেশ প্রেমের তুলনা নেই। যতই কংগ্রেস তোমার ঢেঁড়া পেটাক তাতে সত্যি চাপা থাকে না। কংগ্রেসতো প্রচার করেই চলছে-এই সব বিপ্লবী এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু যা করতে পারেননি, তুমি তাই করেছ। অর্থাৎ বিপ্লবীদের বিপ্লব আর নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আজাদ হিন্দ বাহিনীর কোন অবদান নেই ভারতের স্বাধীনতায়, স্বাধীনতা এনেছে তোমার অহিংসা মন্ত্র। তাই তারা ইতিহাসের পাতা থেকে নেতাজিকে মুছে ফেলতে চায়। তোমার চক্রান্তেই নেতাজিকে দেশ ফিরে পেল না। তাতে দেশের অপরিসীম ক্ষতি হয়নি?

দেশ ভাগের জন্য গান্ধীজি সবচেয়ে বেশি দায়ী। তাঁর হঠকারিতার জন্যই ভারত ভেঙ্গে দু-টুকরো হয়েছিল। দেশ বিভাগে তিনি আগেই তাঁর সমর্থন জানিয়েছিলেন। এর ঘাড়ে ওর ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে সাধু পুরুষ সাজবার চেষ্টা করেছেন। অথচ তিনিই দেশভাগের মূলে। গান্ধীজির অনেক অপকর্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় অপকর্ম দেশ বিভাগ। তাঁরই জন্য ভারতবর্ষের মানচিত্রই পাল্টে গেল।

সম্প্রতি পরিচালক রাজ চক্রবর্ত্তী পরিচালিত বাংলা চলচ্চিত্র প্রলয় ২ কে ঘিরে এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ছবিতে বিপ্লবী শহীদ ক্ষুদিরাম বোস ও প্রফুল্ল চাকী কে নিয়ে কিছু সংলাপকে অনেকেই আপত্তিকর বলে মনে করছেন। এর পাশাপাশি নেতাজী গবেষক ড: জয়ন্ত চৌধুরী এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন যে ছবিটিতে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়েও কিছু অসম্মানজনক শব্দ নাকি সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই দেশপ্রেমিক মহল ও নেতাজী অনুরাগীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ড. জয়ন্ত চৌধুরী তাঁর বার্তায় সকল নেতাজী গবেষক, ইতিহাসচর্চাকারী এবং দেশপ্রেমিক মানুষকে এই বিষয়ে প্রতিবাদে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান বিপ্লবীদের নিয়ে নির্মিত কোনও চলচ্চিত্রে এমন ভাষা বা উপস্থাপনা থাকা উচিত নয়, যা তাঁদের সম্মানহানির কারণ হতে পারে। ইতিহাসের চরিত্রগুলিকে নিয়ে শিল্পচর্চা অবশ্যই করা যায়, কিন্তু সেই উপস্থাপনায় দায়িত্ববোধ এবং সংবেদনশীলতা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকা অনন্য ও অসামান্য। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং ছিলেন এক অদম্য দেশপ্রেমিক এবং দূরদর্শী সংগঠক। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজ ভারতীয় স্বাধীনতার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছিল। তাই এমন একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কোনও চলচ্চিত্রে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা হলে তা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আবেগে আঘাত হানে।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে নেতাজী কখনও সিনেমাজগতকে অবহেলা করেননি। বরং তিনি সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলির গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করতেন। তাঁর জীবনের বিভিন্ন সময় তিনি একাধিক সিনেমা হলের উদ্বোধন ও নামকরণ করেছিলেন। বিদেশে অবস্থানকালে তিনি সিনেমা হলেই আজাদ হিন্দ সরকারের বক্তব্য এবং ভাষণ দিয়েছেন। অর্থাৎ, চলচ্চিত্র মাধ্যমকে তিনি জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখতেন।

এই কারণেই আজকের চলচ্চিত্র জগতের কাছে প্রত্যাশা আরও বেশি। নেতাজীর মতো মহান ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে যদি কোনও প্রসঙ্গ উঠে আসে, তবে তা যেন যথাযথ গবেষণা, শ্রদ্ধা এবং দায়িত্ববোধের সঙ্গে উপস্থাপিত হয়। শিল্পের স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই স্বাধীনতার সঙ্গে ইতিহাসের সত্যতা ও জাতির আবেগের প্রতিও সমান সম্মান দেখানো প্রয়োজন।

বর্তমান বিতর্ক আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে – ঐতিহাসিক চরিত্রকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রে নির্মাতাদের দায়িত্ব কতটা হওয়া উচিত। ইতিহাস বিকৃত না করে, বরং নতুন প্রজন্মের সামনে সত্য ও প্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত তুলে ধরা চলচ্চিত্রকারদের অন্যতম কর্তব্য হওয়া উচিত।সবশেষে বলা যায়, এই বিতর্ক শুধুমাত্র একটি সিনেমাকে ঘিরে নয়; এটি আমাদের ইতিহাসচেতনা ও জাতীয় সম্মানের সঙ্গেও জড়িত। তাই বিষয়টি নিয়ে যুক্তিপূর্ণ আলোচনা এবং দায়িত্বশীল মনোভাবই হতে পারে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ।

আসাম রাজ্যতে গিয়ে দেখুন নেতাজি সুভাষ কে কিভাবে সম্মান দেয় ? নেতাজি যেনো আসাম রাজ্যের শিরায় শিরায় বইছে অনবরত।ভারতের বহু জায়গায় তাঁকে ভগবান হিসাবে পুজো করা হয়।অথচ যে বাংলার মাটিতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেছিলেন সেই বাংলায় বাঙালিরা তাঁকে অসম্মান করে,তাঁকে বাংলার কম্যুনিস্ট পার্টিরা তোজোর কুকুর বলে সম্বোধন করেছিল,তাতে এতটুকু লজ্জা বোধ করে নি।সেই কম্যুনিস্টরা বাংলার বুকে প্রায় ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল।এই দোষ বাংলার জনগণের তা ভুলে গেলে চলবে না 

🔴প্রবন্ধের বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।
🟡প্রবন্ধ পাঠাবেন হোয়াটস অ্যাপে – 9434566498

Share this on social media

Facebook
Twitter
Email
WhatsApp
Telegram
Pinterest