খবর সোজাসুজি

চোখে চোখ রেখে কথা বলে !!!
চোখে চোখ রেখে কথা বলে !!!

মসনদের লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদন – ভোটের দামামা বেজে গেছে।ভোট ময়দানে নেমে পড়েছে ছোট বড় সব রাজনৈতিক দল।জোর কদমে চলছে প্রচার।প্রতিশ্রুতির বন্যা বইছে।এ বলে আমায় দেখ,ও বলে আমায় দেখ।ভোট ঘোষণার আগেই লক্ষীর ভান্ডার ৫০০ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে মমতা ব্যানার্জি’র মা মাটি মানুষের সরকার।জেনারেল কাস্ট মহিলারা যারা ১০০০ টাকা করে পেতেন এখন তারা পাচ্ছেন ১৫০০ টাকা করে,আর এসটি এসসি মহিলারা এখন প্রতিমাসে পাচ্ছেন ১৭০০ টাকা করে।তৃণমূল বলছে আজীবন পাবেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার,কোনো চিন্তা নেই।অন্যদিকে বিজেপি বলছে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা ভান্ডারে মা বোনেদের প্রতিমাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।আবার বামফ্রন্ট বলছে, প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্যের স্থায়ী কাজ এবং ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি মাসে ৬০০০ টাকা করে দেওয়া হবে বার্ধক্য ভাতা।প্রচারে ঝড় তুলছে আইএসএফ।কংগ্রেসও এবার একা লড়াই করছে।যে যার মতো প্রচার করছে।বিজেপি তো স্লোগান তুলছে পাল্টানো দরকার চাই বিজেপি সরকার। গ্রামের খেটে খাওয়া গরীব মধ্যবিত্ত মানুষ কিন্তু বিজেপির কথা ঠিক মতো গিলছে বলে মনে হচ্ছে না।তাদের অনেকেই বলাবলি করছেন,বিজেপির জন্যই তো রাজ্যে দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে বন্ধ একশো দিনের কাজ।দুর্নীতির অভিযোগ তুলে একশো দিনের কাজে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোনো বরাদ্দ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার শিকার পশ্চিমবঙ্গ।বিভিন্ন অজুহাতে একশো দিনের কাজ,আবাস যোজনা,জল জীবন মিশন সহ একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।একদম বিমাতৃসুলভ আচরণ।রান্নার গ্যাসের দাম আবার দিন দিন বাড়ছে।জ্বালানির আঁচ আজ মানুষের হেঁসেলে এসে পড়েছে।সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন অজুহাতে বার বার লাইনে দাঁড় করাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন মানুষজন।এরাই কিনা এখন বলছে বাংলায় ক্ষমতায় এলে সোনার বাংলা গড়বো।দুর্নীতির ধুয়ো তুলে বাংলার লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মেরে এখন সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিজেপি।কিন্তু মানুষ তো এত বোকা নন,তারা তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে সব কিছু বিচার বিবেচনা করছে।কে ভালো কে খারাপ সেটা বোঝার ক্ষমতা বাংলার মানুষের আছে।তাছাড়া একশো দিনের কাজ পাওয়া তো মানুষের আইনি অধিকার।জোর করে কি মানুষের এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার ? দুর্নীতির ধুয়ো তুলে দীর্ঘদিন ধরে কি এভাবে একশো দিনের কাজ বন্ধ রাখতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার ? এটা তো কোনো দয়ার দান নয়, মানুষের ন্যায্য আইনি অধিকার।আর এই অধিকার থেকে মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।বলা হচ্ছে রাজ্যে একশো দিনের কাজে দুর্নীতি হয়েছে।কিন্তু মুখে বললেই তো হবে না,প্রমাণ তো দিতে হবে।রাজ্যে তো একশো দিনের কাজ পরিদর্শনের জন্য অনেক কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল এল,কিন্তু একশো দিনের কাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে ক’টা ? ক’জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে ? একশো দিনের কাজে দুর্নীতির দায়ে ক’টা প্রধান জেলে আছেন ? যারা দুর্নীতি করেছে তাদের শাস্তি হচ্ছে কোথায় ? কাজ না পেয়ে শাস্তি তো পাচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।দুর্নীতির ধুয়ো তুলে গরীবের পেটে লাথি মেরে এভাবে কি রাজ্যের হকের টাকা আটকে রাখা যায় ? অনেকেই বলাবলি করছেন,একশো দিনের কাজে কারো বিরুদ্ধে যদি নির্দিষ্ট ভাবে দুর্নীতির অভিযোগ থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিক কেন্দ্রীয় সরকার।কিন্তু তা না করে গরীবের পেটে লাথি মেরে এখন দুয়ারে দুয়ারে ভোট চাইতে এলে হবে ? রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের এই বিমাতৃসুলভ আচরণ ভালো ভাবে দেখছে না রাজ্যের মানুষ।তাই ভোটের সময় বিজেপি যতই প্রতিশ্রুতি দিক তাদের মুখের কথায় চিঁড়ে ভিজবে বলে মনে হয় না।অন্যদিকে রাজ্যের মা মাটি মানুষের সরকারও ধোয়া তুলসী পাতা নয়। তাদের বিরুদ্ধেও ভুরি ভুরি অভিযোগ আছে।তার ওপর আবার আছে আলু চাষীদের ক্ষোভ।তাই এবারে ভোটের অঙ্কটা খুব সহজ নয়।ময়দানে আছে সিপিএম,আইএসএফ, কংগ্রেস,তৃণমূল,বিজেপি সহ বাম শরিকেরা।কেউই বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি মাটি ছাড়তে রাজি নয়।তার ওপর আবার এসআইআরের ফলে ভোটার লিস্টে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশানে থাকা লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটার বাদ।তাই ভোট কাটাকুটির খেলায় জিতবে কে সেটাই এখন দেখার।

Share this on social media

Facebook
Twitter
Email
WhatsApp
Telegram
Pinterest