বাংলার বাড়ির বদলে পশ্চিমবঙ্গ আবাস
- Israil Mallick
- 19 Aug, 2026
‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম বদলে হল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস।'একই সঙ্গে ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৭৯ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে বাড়ি নির্মাণের দ্বিতীয় তথা শেষ কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে পাঠানো শুরু করল রাজ্য সরকার।নবান্নে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান,মোট ৬ হাজার কোটিরও বেশি টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।তাঁর দাবি,প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন করাই সরকারের লক্ষ্য।মুখ্যমন্ত্রী বলেন,দীর্ঘদিন ধরে বহু উপভোক্তা অনিশ্চয়তায় ছিলেন।প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর দ্বিতীয় কিস্তি আদৌ মিলবে কি না,তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।এ দিন দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বিতরণের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তার অবসান হল বলেই দাবি করেন তিনি।সরকারি আবাসন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগও এ দিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।তাঁর বক্তব্য, প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বেআইনি সুবিধাভোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।পাশাপাশি প্রায় ৫৭ হাজার এমন ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে,যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকেই বাদ পড়েছে।তাঁদের প্রকৃত উপভোক্তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।প্রকৃত উপভোক্তার হাতেই সরকারি অর্থ পৌঁছবে, কোনও বেআইনি সুবিধাভোগী বা অনুপ্রবেশকারীকে সরকারি টাকা দেওয়া হবে না বলে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।এই প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই প্রকল্পের তদন্ত ও উপভোক্তা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার জন্য তাঁকে কৃতিত্ব দেন তিনি।পাশাপাশি মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল,অর্থ দপ্তর, পঞ্চায়েত দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরও ধন্যবাদ জানান।অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন,মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নতুন নাম হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস'। তাঁর বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামের সঙ্গে রাজ্যের ইতিহাস ও দেশভাগের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। তাই প্রকল্পের নামেও সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়েছে।উপভোক্তাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান বাজারদরে বাড়ি সম্পূর্ণ করতে অতিরিক্ত কিছু অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বাড়ি সম্পূর্ণ হলে স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে শৌচাগার নির্মাণের জন্য ১২ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলেও জানান। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পে যুক্ত হয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় ভর্তুকি এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি পরিবারগুলির জন্য রাজ্যের অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকার সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।আবাস প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।তিনি জানান, কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই এক লক্ষ নতুন বাড়ির অনুমোদন মিলেছে।তবে প্রয়োজন হলে ২০ লক্ষ, ৩০ লক্ষ বা তারও বেশি বাড়ির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অর্থ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন তিনি। আবাস প্রকল্পে সমীক্ষার সময়সীমাও ১৫ অগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যাঁদের নাম এখনও তালিকাভুক্ত হয়নি, তাঁদের প্রকৃত যোগ্যতা যাচাই করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।তাঁর দাবি,দুর্গাপুজোর পরেই আরও কয়েক লক্ষ উপভোক্তার হাতে প্রথম কিস্তির টাকা তুলে দেওয়ার কর্মসূচি শুরু হবে। দল, ধর্ম বা সম্প্রদায় নয়, শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশিকা এবং প্রকৃত যোগ্যতার ভিত্তিতেই উপভোক্তা নির্বাচন করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।বক্তব্যের শেষে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রত্যেক পরিবারকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।তাঁর কথায়,গ্রামীণ আবাসন, পানীয় জল,শৌচাগার, সৌরবিদ্যুৎ ও খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন প্রকল্পের সমন্বিত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলকে উন্নয়নের নতুন স্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *